দেশবাসীকে নববর্ষের উপহার দিলাম : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ১৩ এপ্রিল
ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, নববর্ষের প্রাক্কালে হাতিরঝিলে নির্মিত অত্যাধুনিক অ্যাম্পিথিয়েটার ও ডিজিটাল মিউজিক্যাল ড্যান্সিং ওয়াটার ফাউন্টেন ঢাকাবাসী তথা দেশবাসীর চিত্ত-বিনোদনের জন্য নববর্ষের উপহার হিসেবে দিলাম।

আজ বৃহস্পতিবার গণভবনে এক অনুষ্ঠান থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ দুটি স্থাপনার উদ্বোধন করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা টেলিভিশনে বা ফেইসবুক লাইভে এই অনুষ্ঠান দেখছেন, তাদের সবাইকে বাংলা নতুন বছরের আগাম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’

হাতিরঝিলে মুক্তমঞ্চ ও ভাসমান ফোয়ারকে দেশবাসীর জন্য ‘নববর্ষের উপহার’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের চিত্ত বিনোদনের ব্যাবস্থা করতেও আমাদের সরকার আন্তরিক।’ এই মিউজিক্যাল ড্যান্সিং ফাউন্টেন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ‘সবচেয়ে বড়’ বলে অনুষ্ঠানে দাবি করেন হাতিরঝিল প্রকল্পের পরিচালক মেজর জেনারেল আবু সাঈদ মো. মাসুদ।

এ অনুষ্ঠানে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে ময়মনসিংহ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মো. শফিউল হক। অন্যদের মধ্যে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সেরানিউজ২৪/আই.জে

বর্ষবরণ নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সক্ষমতা প্রয়োগ: র‌্যাব ডিজি

ঢাকা, ১২ এপ্রিল
ডেস্ক : বর্ষবরণে র‌্যাবের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেছেন, এ লক্ষ্যে বিশদ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে র‌্যাব। পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে রমনা বটমূলে বুধবার বিকাল পাঁচটার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে র‌্যাবের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে রমনা পার্ক এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি।

বেনজির আহমেদ বলেন, ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ যে অঞ্চলে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, সব জায়গায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে র‌্যাবের ডিজি বলেন, ‘নিরাপত্তার অংশ হিসেবে আমাদের গাড়িতে পেট্রোল ডিউটি, মোটরসাইকেল যোগে ফুটপাতে পেট্রোল ডিউটি থাকবে। এ ছাড়া থাকবে ডগ স্কোয়াড, ঢাকা মহানগর পুলিশ ডিএমপির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিটি স্থানে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। থাকছে ওয়াচ টাওয়ার, এ ছাড়া সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা মাঠে কাজ করবেন। ’

মোটরসাইকেলে আরোহী নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে জানান র‌্যাবের মহাপরিচালক। মোটরসাইকেলে একজন চলাচলা করবেন। তবে কেউ যদি তার স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে চড়তে চান সেটা ভিন্ন কথা।’
আর পহেলা বৈশাখের উৎসব আয়োজকরা দিনের আলোতেই উৎসব শেষ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন র‌্যাবের ডিজি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব-প্রধান বলেন, ‘কোনো ধরনের হুমকি নেই। তবে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় দিতে চাই না।’

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ, আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান, র‌্যাব-৩-এর অপারেশন অফিসার মঞ্জুরুল আলম এবং আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান এবং মেজর মেহেদী হাসান উপস্থিত ছিলেন।

সেরানিউজ২৪/আই.জে

হাই কোর্টের ভাস্কর্য সরাতে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসবেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ১২ এপ্রিল
ডেস্ক : উচ্চ আদালত প্রাঙ্গণের সামনে স্থাপিত গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য সরানোর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা এখানে থাকা উচিত নয়।’ তিনি আরও বলেছেন, এ ব্যাপারে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসবেন। তাকে এটি সরানোর অনুরোধ করবেন।

মঙ্গলবার রাতে গণভবনে আলেমদের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন। কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতি ঘোষণা করতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আলেমদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য সরানোর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী তার ওপর ভরসা রাখতে আলেমদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের হাইকোর্টের সামনে গ্রিক থেমেসিসের এক মূর্তি লাগানো হয়েছে। সত্য কথা বলতে কি, আমি নিজেও এটা পছন্দ করিনি। কারণ গ্রিক থেমেসিসের মূর্তি আমাদের এখানে কেন আসবে। এটাতো আমাদের দেশে আসার কথা না। আর গ্রিকদের পোশাক ছিল একরকম, সেখানে মূর্তি বানিয়ে তাকে আবার শাড়িও পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটাও একটা হাস্যকর ব্যাপার করা হয়েছে। এর কী মানে!
গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য সরাতে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা কেন করা হলো, কারা করল, কীভাবে—আমি জানি না। ইতিমধ্যেই আমাদের প্রধান বিচারপতিকে আমি এই খবরটা দিয়েছি এবং খুব শিগগিরই আমি ওনার সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে বসব। আলোচনা করব এবং আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা এখানে থাকা উচিত নয়।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি আপনাদের বলব আপনারা ধৈর্য ধরেন। এটা নিয়ে কোনো হই চই নয়। একটা কিছু যখন করে ফেলেছে সেটাকে আমাদের সরাতে হবে। সেটার জন্য আপনারা একটুকু ভরসা অন্তত রাখবেন যে, এ বিষয়ে যা যা করার আমি তা করব।

এর আগে আলেমদের প্রতিনিধি যারা বক্তব্য দেন সবাই আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য সরানোর দাবি জানান। তারা বলেন, এটা আমাদের বাংলাদেশি সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না।

গত ডিসেম্বরে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে একটি দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। সুপ্রিম কোর্টে মূলভবনের সামনে ফোয়ারার মধ্যে এটি স্থাপন করা হয়। ভাস্কর্যটি নির্মাণ করছেন ভাস্কর মৃণাল হক।

প্রসঙ্গত, ভাস্কর্যটি একজন নারীর। তিনি দাঁড়িয়ে আছেন। তার ডান হাতে তলোয়ার বাম হাতে দাঁড়িপাল্লা। তলোয়ারটি নিচের দিকে নামানো। দাঁড়িপাল্লা উপরে ধারণ করে আছেন। মৃণাল হক বলেন, ‘সারা বিশ্বেই এটি বিচার বিভাগের প্রতীক। তবে অন্যান্য দেশে স্থাপিত ভাস্কর্যর সাথে আমাদের দেশের ভাস্কর্যের একটু পার্থক্য রয়েছে। অন্যান্য দেশে ভাস্কর্যের গায়ে স্কার্ফ পরা থাকলেও এখানে শাড়ি পরানো হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য দেশে পায়ের নিচে সাপ থাকলেও এখানে এটি বাদ দেয়া হয়েছে।

এই ভাস্কর্যটি স্থাপনের পর থেকেই এটাকে ‘মূর্তি’ আখ্যায়িত করে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে ধর্মভিত্তিক দলগুলো। তাদের দাবি, যে দেশের ৯০ ভাগ মুসলমান সে দেশে গ্রিক দেবীর মূর্তি কখনো ন্যায়বিচারের প্রতীক হতে পারে না। তারা এটা অপসারণ করে কোরআনের ভাস্কর্য বসানোর দাবি জানান।

সেরানিউজ২৪/আই.জে

তিস্তা চুক্তির খসড়া তৈরি, শুধু অনুমোদনের বাকি: সেতুমন্ত্রী

ঢাকা, ১০ এপ্রিল
ডেস্ক : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়েদুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলে তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের চুক্তি সম্পন্ন হবে। এ ব্যাপারে চুক্তির খসড়া তৈরি হয়ে আছে, শুধু অনুমোদনের বাকি।

আজ সোমবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান কুচিয়ামুড়া কলেজগেট এলাকায় বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিদর্শনকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এসময় সেতুমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে বিএনপি অতীতের মত ভারতবিরোধী রাজনীতির ভাঙা রেকর্ড বাজাচ্ছে। জনগণ চাইলে বারবার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে পারে, ভারত নয়। বাংলাদেশ জনগণই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসাবে।

এ সময় মন্ত্রী ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত ৩১টি মামলা করে এবং ৬০ হাজার টাকা জরিমান আদায় করা হয়। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিআরটির চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান, পরিচালক (প্রশাসন) নাজমুল আহসান, বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আব্দুস সালাম, উপপরিচালক মাসুদুল আলম, মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ প্রমুখ।

সেরানিউজ২৪/আই.জে

ভারত সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ১১ এপ্রিল :
ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে সে দেশে চারদিনের সরকারি সফর শেষে ১০ এপ্রিল বিকেলে দেশে ফিরেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এর আগে ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে পাঁচটায় নয়াদিল্লীতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর পালাম স্টেশন ত্যাগ করে। প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে পালাম স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন ভারতের ভারী শিল্প ও সরকারি প্রতিষ্ঠান বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, নয়াদিল্লীতে বাংলাদেশী হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী ও ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ফারুক খান অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে ফেরার পর দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাঁকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এই সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ও উপ-রাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে হায়দরাবাদ হাউসের বলরুমে বৈঠক শেষে ঢাকা ও নয়াদিল্লীর মধ্যে ৩৪টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। শেখ হাসিনা ব্রিটিশ শাসিত ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা মহাত্মা গান্ধীর রাজঘাটস্থ সমাধিতে ফুল দিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

দুই প্রধানমন্ত্রী জাতির জনকের আত্মজীবনীমূলক বই ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী-এর হিন্দি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করেন। শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি সম্মান জানান। প্রধানমন্ত্রী রাজস্থানে আজমীর শরীফে যান এবং খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। শেখ হাসিনা তাঁর সম্মানে ভারতের রাষ্ট্রপতির দেয়া নৈশভোজে অংশ নেন। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেয়া এক ভোজসভায় অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন আয়োজিত তাকে দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান করেন এবং নয়াদিল্লীতে এক বিজনেস অনুষ্ঠানেও অংশ নেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর এটাই তাঁর সরকারি পর্যায়ে প্রথম ভারত সফর। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এর আগে ২০১০ সালের জানুয়ারিতে এক সরকারি সফরে ভারত যান। ২০১৫ সালে ফিরতি সফরে বাংলাদেশে আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

সেরানিউজ২৪/আই.জে

মতিঝিলে বিডিবিএল ভবনে আগুন

ঢাকা, ১০ এপ্রিল
ডেস্ক : ঢাকার মতিঝিলে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল) ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

আজ সোমবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে ওই ভবনের ২০ তলার একটি কক্ষে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার মিজানুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে ওই ভবনের ২০ তলার একটি কক্ষে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তাৎকাক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

সেরানিউজ২৪/আই.জে

‘আমাদের যৌথ পানিসম্পদকে কাজে লাগাতে হবে’

ঢাকা, ১০ এপ্রিল
ডেস্ক : ভারতে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দুই দেশের সম্পর্ক আরো মজবুত করতে আমাদের যৌথ পানিসম্পদকে কাজে লাগাতে হবে। সব অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনে অববাহিকাভিত্তিক একটি বিস্তৃত পরিকল্পনার মধ্যেই আমাদের যৌথ ভবিষ্যত নিহিত ।

৪ দিনের ভারত সফরের শেষ দিন আজ সোমবার সকালে নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিশ্রুত তিস্তা চুক্তি হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক রূপান্তরের আরো একটি পর্যায় অতিক্রম করবে।
৬ বছর ধরে ঝুলে থাকা তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরেও হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার ‘রাজ্যের স্বার্থের’ কথা বলে এখনো চুক্তির বিরোধিতায় অনড়। তবে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য তিস্তা চুক্তি যে গুরুত্বপূর্ণ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তা স্বীকার করেছেন।

শনিবার হাসিনার সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের পর তিনি বলেছেন, দুই দেশের বর্তমান সরকারের মেয়াদেই তিস্তার পানি বণ্টন সমস্যার সমাধানে পৌঁছনো যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যত দ্রুত সম্ভব তিস্তার সমাধান করতে তার সরকারের আন্তরিক আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আর তা বাস্তবায়ন হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরো একটি রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন পর্যায়ে পৌঁছাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তা বিষয়ে ভারতের উদ্বেগ আমরা সামগ্রিকভাবে দূর করেছি এবং এটি আমাদের মধ্যে আস্থা তৈরি করার একটি উপাদান। দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বহুস্তর ভিত্তিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং অনেকগুলো যৌথ প্রাতিষ্ঠানিক মেকানিজম এখানে কাজ করে।

সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ আমাদের শান্তি ও সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বড় বাধা। সন্ত্রাসীদের কারণে আমাদের অর্থনীতি ও সমাজকে একীভূত হওয়া এখন ঝুঁকির মুখে।

স্থল ও সুমদ্র সীমানা নির্ধারণের বিষয়ে তিনি বলেন, দুই দেশ শান্তিপূর্ণভাবে এ সমস্যার সমাধান করেছে। তিনি এজন্য সব রাজনৈতিক দল এবং লোকসভা ও রাজ্যসভার সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।

১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনীর চালানো গণহত্যার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতার ইতিহাস এখন বিকৃত করা হচ্ছে। বাংলাদেশের সংসদ সম্প্রতি একটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিয়েছে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করার। আমরা চাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ গণহত্যাকে স্বীকৃতি দেবে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের প্রচেষ্টাকে সমর্থন দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ সংম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রবীণ বিজেপি নেতা এল কে আদভানি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং উপস্থিত ছিলেন।

সেরানিউজ২৪/আই.জে