আজ চৈত্র-সংক্রান্তি: ঋতুরাজ বসন্তের বিদায়

ঢাকা, ১৩ এপ্রিল
ডেস্ক : ‘মুছে যাক গ্লানি, মুছে যাক জরা/ অগ্নিস্নানে সূচি হোক ধরা’ বিদায়ী সূর্যের সামনে আজ এ প্রণতি রাখছে বাঙালি। আজ ৩০ চৈত্র ১৪২৩। বাংলা বছরের শেষদিন। শেষদিন আজ ঋতুরাজ বসন্তেরও। আজ চৈত্র সংক্রান্তি। বাংলা বছরের শেষ দিন হওয়ায় চৈত্র মাসের শেষ এ দিনটিকে বলা হয় ‘চৈত্র সংক্রান্তি’। বাংলার বিশেষ লোকজ উৎসব এই চৈত্র সংক্রান্তি।

চিরায়ত অসাম্প্রদায়িক বাঙালির কাছে চৈত্র সংক্রান্তি এক বৃহত্তর লোক উৎসবে পরিণত হয়েছে। হিন্দুরা এ দিনটিকে অত্যন্ত একটি পুণ্যদিন বলে মনে করে। জানা যায়, সাধারণত এই বসন্তকালে বাসন্তী দেবী ও অর্ন্নপূর্ণাদেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। হিন্দু পঞ্জিকা মতে দিনটিকে গণ্য করা হয় মহবিষুব সংক্রান্তি নামে। হিন্দুরা পিতৃপুরুষের তর্পন করে থাকে, নদীতে বা দিঘিতে পুণ্যস্নান করে থাকে। নানা আচার-অনুষ্ঠান আর হালখাতার প্রস্তুতি নেওয়ার দিন আজ। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে কালের অতল গর্ভে হারিয়ে যাবে আরও একটি বছর। বাঙালি বরণ করে নেবে বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ কে।

চৈত্র সংক্রান্তি বাংলার লোক সংস্কৃতির এমন এক অনুষঙ্গ যা সর্বজনীন উৎসবের আমেজে বর্ণিল। বছরের শেষদিনে যেমন নানা আয়োজনে বর্ষকে বিদায় জানানো হয় তেমনি চৈত্রের শেষ দিনে বৈশাখ বন্দনায় মেতে ওঠে বাঙালি। নব আনন্দ বাজুক প্রাণে, এই মঙ্গল কামনার মাধ্যমে বিগত বছরের গ্লানি মুছে ফেলতে আবহমান বাঙালি আজ মেতে উঠবে চৈত্র সংক্রান্তির উৎসবে।

চৈত্র সংক্রান্তির প্রধান উৎসব : বাংলা উইকিপিডিয়া সূত্রমতে, চৈত্র থেকে বর্ষার প্রারম্ভ পর্যন্ত সূর্যের যখন প্রচন্ড উত্তাপ থাকে তখন সূর্যের তেজ প্রশমন ও বৃষ্টি লাভের আশায় কৃষিজীবী সমাজ বহু অতীতে চৈত্র সংক্রান্তির উদ্ভাবন করেছিল বলে জানা যায় ইতিহাস ঘেটে।

চৈত্র সংক্রান্তির প্রধান উৎসব চড়ক। চড়ক গাজন উৎসবের একটি প্রধান অঙ্গ। এই উপলক্ষে একগ্রামের শিবতলা থেকে শোভাযাত্রা শুরু করে অন্য শিবতলায় নিয়ে যাওয়া হয়, একজন শিব ও একজন গৌরী সেজে নৃত্য করে এবং অন্য ভক্তরা নন্দি, ভৃঙ্গী, ভূত-প্রেত, দৈত্যদানব প্রভৃতি সেজে শিব-গৌরীর সঙ্গে নেচে চলে। এ সময়ে শিব সম্পর্কে নানারকম লৌকিক ছড়া পাঠ করা হয় যাতে শিবের নিদ্রাভঙ্গ থেকে শুরু করে তার বিয়ে, কৃষিকর্ম ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ থাকে।

এই মেলাতে সাধারণত শূলফোঁড়া, বানফোড়া ও বড়শিগাঁথা অবস্থায় চড়ক গাছের ঘোরা, আগুনে হাঁটা প্রভৃতি সব ভয়ঙ্কর ও কষ্টসাধ্য দৈহিক কলাকৌশল দেখানো হতো। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই ধরণের খেলা একেবারেই কমে গেছে। শাস্ত্র ও লোকাচার অনুসারে এইদিনে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস প্রভৃতি ক্রিয়াকর্মকে পূণ্যজনক বলে মনে করা হয়। বাঙালী যে দিন চৈত্র সংক্রান্তি পালন করে থাকে সেদিন অদিবাসী সম্প্রদায় পালন করে থাকে তাদের বর্ষ বিদায় ও বর্ষবরণ অণুষ্ঠান-বৈসাবী।

চৈত্র সংক্রান্তিতে দেশজুড়ে এখন চলছে নানা ধরনের মেলা, উৎসব। হালখাতার জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাজানো, লাঠিখেলা, গান, আবৃত্তি, সঙযাত্রা, রায়বেশে নৃত্য, শোভাযাত্রাসহ নানা অনুষ্ঠান আর ভূত তাড়ানোর মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে চৈত্র সংক্রান্তি। আমাদের লোকজ সংস্কৃতির যা কিছু সত্য, সুন্দর, শুভ ও শুচি তা টিকে থাকুক অনন্তকাল-এই হোক চৈত্র সংক্রান্তির প্রার্থনা। জয়তু চৈত্র সংক্রান্তি ১৪২৩।

সেরানিউজ২৪/আই.জে

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s